নিজস্ব প্রতিবেদক, সোনারগাঁ:
ঐতিহাসিক ও পর্যটন নগরী নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মাদকের ভয়াবহতা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন এবং একমাত্র পৌরসভার প্রতিটি অলিগলিতে এখন মাদকের অবাধ বিস্তার ঘটেছে। হাত বাড়ালেই মিলছে মরণনেশা ইয়াবা, ফেনসিডিল ও গাঁজাসহ হরেক রকমের মাদকদ্রব্য। মাদকের এই করাল গ্রাসে প্রতিনিয়ত ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে শত শত পরিবার।
এই আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি থেকে সোনারগাঁর যুবসমাজ ও পরিবারগুলোকে বাঁচাতে সোনারগাঁয়ের সচেতন নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে স্থানীয় সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান, উপজেলা প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জরুরি ও কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে ও স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের সূত্রে জানা গেছে, সোনারগাঁয়ের পৌরসভা থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিটি ইউনিয়নের আনাচে-কানাচে গড়ে উঠেছে মাদক বিক্রির শক্তিশালী সিন্ডিকেট। পাড়া-মহল্লার মোড়, চায়ের দোকান, পরিত্যক্ত জায়গা, বিভিন্ন গোপন স্পট এমনকি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশেপাশেই দেদারসে চলছে মাদক কেনাবেচা। এক সময় যা ছিল গোপনে, এখন তা একপ্রকার প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
মাদকের এই ভয়াল থাবায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তরুণ ও যুবসমাজ। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বিভিন্ন পেশার যুবকেরা জড়িয়ে পড়ছে এই মরণনেশায়। এর ফলে এলাকায় নানামুখী সংকটের সৃষ্টি হচ্ছে। মাদকাসক্ত সন্তানদের মাদকের টাকা জোগাতে গিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলো। প্রতিনিয়ত ঘরে ঘরে চলছে অশান্তি ও পারিবারিক নির্যাতন। এছাড়া মাদকের টাকা জোগাড় করতে গিয়ে এলাকায় চুরি, ছিনতাই, কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত এবং চাঁদাবাজির মতো অপরাধ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। তরুণ প্রজন্মের এই নৈতিক পতন পুরো সোনারগাঁয়ের সামাজিক নিরাপত্তাকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলেছে।
সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মাদকের কারণে আমাদের শান্ত সোনারগাঁ আজ অশান্ত হয়ে উঠেছে। ঘরে ঘরে অভিভাবকেরা চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। আমাদের সন্তানরা কোন পথে যাচ্ছে, তা ভেবে আমরা শঙ্কিত। যদি এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবে।
এই সংকটকালীন পরিস্থিতিতে সোনারগাঁর অভিভাবক হিসেবে মাননীয় সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান-এর প্রতি সচেতন মহলের বিনীত অনুরোধ, মাদক কারবারিরা যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, তাদের কোনো সামাজিক বা রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় যেন না দেওয়া হয়। সোনারগাঁকে একটি আদর্শ ও মাদকমুক্ত জনপদ হিসেবে গড়তে তাঁর দৃঢ় নেতৃত্ব ও কঠোর দিকনির্দেশনা এখন সময়ের দাবি।
একই সাথে উপজেলা প্রশাসনের প্রতি উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে নিয়মিত মাদকবিরোধী ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) পরিচালনা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। সেই সাথে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে সাথে নিয়ে মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক কার্যক্রম বৃদ্ধি এবং যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের আয়োজন করা প্রয়োজন বলে মনে করেন স্থানীয়রা।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি সচেতন নাগরিকদের অনুরোধ, শুধুমাত্র খুচরা বিক্রেতা বা মাদকসেবীদের ধরে সাময়িক ব্যবস্থা না নিয়ে, সোনারগাঁর মাদকের মূল সরবরাহকারী, হোতা ও গডফাদারদের চিহ্নিত করে অবিলম্বে আইনের আওতায় আনতে হবে। প্রতিটি ইউনিয়নের স্পর্শকাতর পয়েন্টগুলোতে পুলিশি টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা এখন জরুরি।
সোনারগাঁয়ের ঐতিহাসিক ঐতিহ্য, গৌরব এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করতে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে একযোগে জিরো টলারেন্স (Zero Tolerance) নীতি গ্রহণ করার জন্য সচেতন নাগরিক সমাজ জোর দাবি। জানাচ্ছে।