
সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের লোডশেডিং এখন আর সাধারণ ভোগান্তিতে সীমাবদ্ধ নেই, তা রূপ নিয়েছে এক চরম বিপর্যয়ে। ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এই উপজেলায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১৩ থেকে ১৪ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ থাকছে না বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তীব্র তাপদাহের মধ্যে বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের এই নজিরবিহীন উদাসীনতায় ক্ষোভে ফুঁসছে গোটা সোনারগাঁওবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দিন কিংবা রাত—কখনো একটানা দুই ঘণ্টাও বিদ্যুৎ মিলছে না। সামান্য বাতাস কিংবা কোনো কারণ ছাড়াই ঘণ্টার পর ঘণ্টা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাখা হচ্ছে। সারাদিন হাড়ভাঙা খাটুনি শেষে সাধারণ মানুষ যখন একটু শান্তির খোঁজে ঘরে ফেরে, তখন রাতের পর রাত বিদ্যুৎহীন অন্ধকারে কাটাতে হচ্ছে। তীব্র গরমে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষেরা চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন। অতিষ্ঠ মানুষজন এখন রাতে ঘুমাতে না পেরে রাস্তাতেও নেমে আসছেন।
এ বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে আল-মাহমুদ সানি নামে স্থানীয় এক ভুক্তভোগী গ্রাহক বলেন,
“নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করার পরেও আমরা কেন এই অমানবিক যন্ত্রণার শিকার হব? গরমে ঘরে থাকা যাচ্ছে না, রাতে ঘুমানো যাচ্ছে না। বিদ্যুৎ বিভাগের এই চরম খামখেয়ালিপনার জবাব কে দেবে? জনগণের দুর্ভোগ নিয়ে কর্তৃপক্ষের কোনো মাথাব্যথা নেই।”
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বর্তমান বাজারে তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের মুখে যেখানে সাধারণ মানুষের সংসার চালানোই দায়, সেখানে হাজার হাজার টাকা খরচ করে আইপিএস (IPS) কিংবা সৌর বিদ্যুৎ (Solar) কেনার সামর্থ্য মধ্যম ও নিম্ন আয়ের পরিবারের নেই। বিত্তবানরা বিকল্প উপায়ে বিদ্যুৎ সচল রাখলেও উপজেলার সিংহভাগ সাধারণ মানুষকে নরকযন্ত্রণা সহ্য করতে হচ্ছে।
উপজেলার মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকার এক ব্যবসায়ী জানান, “দিনে-রাতে যদি ১৩-১৪ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ না থাকে, তাহলে ব্যবসা কীভাবে চলবে? ফ্রিজের মালামাল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, গরমে দোকানে ক্রেতারাও বসতে পারছে না। আমরা নিয়মিত বিল দিয়েও এই চরম অন্যায়ের শিকার হচ্ছি।”
অভিভাবকদের অভিযোগ, সন্ধ্যার পর দীর্ঘসময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা সম্পূর্ণ লাটে উঠেছে। মোমবাতি জ্বালিয়ে এই ভ্যাপসা গরমে ১০ মিনিটও পড়া সম্ভব হচ্ছে না। সামান্য বৃষ্টি বা বাতাস হলেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয় বলেও অভিযোগ গ্রাহকদের।
সোনারগাঁওয়ের সাধারণ জনগণ ও ভুক্তভোগী গ্রাহকরা জানান, বিদ্যুৎ নিয়ে এই লুকোচুরি খেলা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। কোনো এলাকায় লোডশেডিং দিতে হলে তা নিয়ম মেনে এবং সুনির্দিষ্ট শিডিউল অনুযায়ী দিতে হবে। এই অমানবিক পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে তারা সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন মহলের এবং স্থানীয় প্রশাসনের আশু ও জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।