
সোনারগাঁও, নারায়ণগঞ্জ: ঐতিহ্যবাহী জি.আর. স্কুল অ্যান্ড কলেজের এবারের উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফল প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী ও এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক হতাশা ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। এইচএসসি-২০২৫ পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির পাশের হার মাত্র ১৮.৪৯% হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একজন প্রাক্তন ছাত্রের আবেগঘন লেখা আলোচনার সূত্রপাত করেছে। এই ফলাফলকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠানের সুদীর্ঘ ঐতিহ্য এবং শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির একজন প্রাক্তন ছাত্র তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, “জি.আর. স্কুল অ্যান্ড কলেজ এর এইচএসসি-২০২৫ পরীক্ষার ফলাফল দেখে একজন প্রাক্তন ছাত্র হিসেবে সত্যিই খুব বিস্মিত এবং হতাশ। পাশের হার মাত্র ১৮.৪৯% – যা আমাদের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের প্রত্যাশিত ফলাফলের তুলনায় একেবারেই নগন্য।”
তিনি আরও বলেন, “স্কুলটির সোনালী দিনের বহু স্মৃতি আমাদের হৃদয়ে গাঁথা। শিক্ষক-শিক্ষিকা, পরিচালনা পরিষদের এবং বর্তমান শিক্ষার্থীদের প্রতি আমার বিনীত অনুরোধ, এই ফলাফলকে একটি ‘ওয়েক-আপ কল’ হিসেবে নিয়ে এর কারণগুলো গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হোক।” তার এই আকুতি দ্রুতই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং অন্যান্য প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মাঝেও আলোড়ন সৃষ্টি করে। অনেকেই তার এই বক্তব্যের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে প্রতিষ্ঠানের বর্তমান অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
পোস্টটিতে এই প্রাক্তন ছাত্র প্রশ্ন তুলেছেন, “কোথায় ঘাটতি ছিল? শিক্ষকতার মানে, শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতিতে নাকি সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থায়?” এই প্রশ্নগুলোই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে এলাকার সচেতন মহলে। একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের এমন ফলাফলের পেছনে কী কারণ থাকতে পারে, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
জি.আর. স্কুল অ্যান্ড কলেজ, যার পুরো নাম সোনারগাঁ গঙ্গাবাসী ও রামচন্দ্র পোদ্দার ইনস্টিটিউশন মডেল স্কুল এন্ড কলেজ , এই অঞ্চলের অন্যতম প্রাচীন এবং স্বনামধন্য একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। যার রয়েছে শতবর্ষের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। এই প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা দেশ-বিদেশে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত আছেন। স্বাভাবিকভাবেই, প্রতিষ্ঠানের এমন অপ্রত্যাশিত ফলাফলে তারা মর্মাহত।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন অভিভাবক বলেন, “আমরা আমাদের সন্তানদের এই স্কুলে ভর্তি করি এর সুনাম এবং ভালো ফলাফলের কথা চিন্তা করে। কিন্তু এই বছর যা হলো, তা আমাদের হতাশ করেছে। স্কুল কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত এই সমস্যা সমাধানে পদক্ষেপ নেওয়া।”
এই বিষয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া না গেলেও, এমন ফলাফল বিপর্যয়ের পর স্কুল প্রশাসন এবং পরিচালনা পর্ষদ জরুরি বৈঠকে বসতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং প্রতিষ্ঠানের হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারে তারা কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেন, সেদিকেই তাকিয়ে আছে সবাই।
সামাজিক মাধ্যমে সেই প্রাক্তন ছাত্র তার লেখার শেষে আশা প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের প্রিয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেন দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারে এবং সোনালী অতীতের গৌরব ফিরে পেতে পারে, সেই কামনা করি। নতুন বছরে যেন আমাদের স্কুলের নাম ফলাফলের শীর্ষে দেখি, সেই আশায় রইলাম।” তার এই প্রত্যাশা যেন সকল প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী এবং এলাকার মানুষের সম্মিলিত প্রত্যাশারই প্রতিধ্বনি। এখন দেখার বিষয়, এই ‘ওয়েক-আপ কল’ জি.আর. স্কুল অ্যান্ড কলেজ কর্তৃপক্ষের ঘুম ভাঙাতে কতটা সক্ষম হয়।