
নিজস্ব প্রতিবেদক | বাংলাদেশ
তারিখ: ৩ আগস্ট, ২০২৬
চলমান তীব্র গরম এবং নজিরবিহীন লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। নাগালের বাইরে চলে যাওয়া তাপমাত্রা এবং এর সাথে পাল্লা দিয়ে ঘন ঘন বিদ্যুৎ যাওয়ার লুকোচুরি খেলায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ভুক্তভোগীরা বর্তমান লোডশেডিং পরিস্থিতিকে জনপ্রিয় একটি প্রবাদের সাথে তুলনা করে বলছেন— “বিদ্যুৎ যেন একফোঁটা হোমিও ঔষধ, তিন ঘণ্টা পর পর একবার আসে!”
স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন
সোনারগাঁয়ের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ভ্যাপসা গরমের মধ্যে দিনে ও রাতে সমানতালে চলছে পাল্লা দিয়ে লোডশেডিং। কাঁচপুর, পিরোজপুর, মোগরাপাড়া, বৈদ্যেরবাজারসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অর্ধেকের বেশি সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। অনেক এলাকায় একবার বিদ্যুৎ গেলে কখন আসবে তার কোনো নিশ্চয়তা থাকছে না।
চরম ভোগান্তিতে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ
শিশু ও প্রবীণরা: তীব্র গরমে পানিশূন্যতা, ঘামাচি, সর্দি-কাশি ও নানা ধরনের অসুস্থতায় ভুগছে কোমলমতি শিশুরা। অন্যদিকে বয়স্ক ও রোগীরা গরমে বিছানাতেই টিকতে পারছেন না, রাতের পর রাত তাদের কাটছে চরম অস্বস্তি ও অনিদ্রায়।
ছাত্র-ছাত্রীরা: ঘরে আলো ও ফ্যান না থাকায় শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় মনোযোগ হারাতে পারছে না। গরমে ঘেমে একাকার হয়ে পড়ার পাশাপাশি ব্যাহত হচ্ছে তাদের স্বাভাবিক প্রস্তুতি।
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও কর্মজীবী: মুদি দোকান, টেইলার্স, আইটি সেবা প্রতিষ্ঠান ও ছোটোখাটো কারখানার ব্যবসায়ীরা কাজ করতে না পেরে মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। জেনারেটর বা আইপিএসের ওপর ভরসা করেও এই দীর্ঘ লোডশেডিংয়ের পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
ক্ষোভের আগুন সাধারণ মানুষের মনে
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সোনারগাঁয়ের মতো ঘনবসতিপূর্ণ ও শিল্পঘন এলাকায় এমন অমানবিক লোডশেডিং কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ভুক্তভোগীদের আক্ষেপ, সমস্যার কথা জানালেও দায়িত্বশীল জায়গা থেকে কার্যকর কোনো স্বস্তি মিলছে না।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এলাকাবাসী অবিলম্বে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন, যেন এই অসহনীয় গরম ও লোডশেডিংয়ের বন্দিদশা থেকে সাধারণ মানুষ ও তাদের পরিবারগুলো একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারে।