
সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা:
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার শীলমন্দী এলাকায় পরিবেশ ও প্রতিবেশের ক্ষতিসাধনের অভিযোগে চৈতী কম্পোজিট লিমিটেডের বিরুদ্ধে ৭৫ লাখ ৪ হাজার টাকা পরিবেশগত ক্ষতিপূরণ ধার্য করেছে পরিবেশ অধিদপ্তরের মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট উইং।
সোমবার (৩১ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর।
অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত ৯ জুন ঢাকা নমুনা সংগ্রহকারী দলের সদস্যরা চৈতী কম্পোজিট লিমিটেড পরিদর্শন করেন। এ সময় কারখানা কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানটির বর্জ্য পরিশোধনাগার (ইটিপি) থেকে তরল বর্জ্যের নমুনা সংগ্রহ করা হয়।
পরে সংগৃহীত নমুনা পরিবেশ অধিদপ্তরের ঢাকা গবেষণাগারে পরীক্ষা করা হলে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশগত সূচকে নির্ধারিত মানের চেয়ে বেশি মাত্রা পাওয়া যায়।
পরীক্ষার প্রতিবেদনে তরল বর্জ্যে বায়োকেমিক্যাল অক্সিজেন ডিমান্ড (বিওডি) ৭৬ মিলিগ্রাম/লিটার, কেমিক্যাল অক্সিজেন ডিমান্ড (সিওডি) ৪২৯ মিলিগ্রাম/লিটার এবং টোটাল সাসপেন্ডেড সলিডস (টিএসএস) ১৩৯ মিলিগ্রাম/লিটার পাওয়া যায়। এছাড়া বর্জ্যের পিএইচ মাত্রা ছিল ৯ দশমিক ১৬ এবং রঙের মাত্রা ৫৩৩ পিটি-কো।
পরিবেশ অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পরীক্ষায় পাওয়া এসব মান পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা, ২০২৩-এ নির্ধারিত গ্রহণযোগ্য সীমার বাইরে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে পরিবেশ দূষণের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়।
পরবর্তীতে নমুনা পরীক্ষার ফলাফল, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০)-এর ধারা ৭ অনুযায়ী পরিবেশ ও প্রতিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হয়।
এরই ভিত্তিতে চৈতী কম্পোজিট লিমিটেডের ওপর মোট ৭৫ লাখ ৪ হাজার টাকা পরিবেশগত ক্ষতিপূরণ ধার্য করা হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত পরিদর্শন, অভিযান ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।